পশ্চিমবঙ্গের নতুন রেশন তালিকা ২০২৬: জানুয়ারী মাসের রেশন সামগ্রীর তালিকা পরিবর্তনএবং গুরুত্বপূর্ণ আপডেট
West Bengal New Ration List 2026: Changes and Important Updates in Ration List for January
২০২৬ সালের শুরুতেই পশ্চিমবঙ্গ খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তর রাজ্যবাসীদের জন্য রেশনের নতুন তালিকা এবং খাদ্যশস্য বরাদ্দের পরিমাণ ঘোষণা করেছে। আপনি যদি পশ্চিমবঙ্গের একজন রেশন কার্ড গ্রাহক হন, তবে এই জানুয়ারি মাসে আপনার কার্ডের ক্যাটাগরি অনুযায়ী কতটুকু চাল বা আটা পাবেন এবং তালিকায় কোনো পরিবর্তন এসেছে কি না, তা জেনে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
(TOC)
![]() |
| West
Bengal New Ration List-2026 পশ্চিমবঙ্গের নতুন রেশন তালিকা-২০২৬ |
পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দারা খাদ্য সাথী প্রকল্পের অধীনে পাচ ধরনের রেশন কার্ডের সুবিধা পেয়ে থাকেন। এই পাঁচ ধরনের কার্ডগুলি হল: AAY (অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনা) রেশন কার্ড, PHH (অগ্রাধিকার প্রাপ্ত) রেশন কার্ড, SPHH (বিশেষ অগ্রাধিকার প্রাপ্ত) রেশন কার্ড, RKSY–1 (রাজ্য খাদ্য সুরক্ষা যোজনা-১) রেশন কার্ড, RKSY–2 (রাজ্য খাদ্য সুরক্ষা যোজনা-২) রেশন কার্ড।
আজকেরব্লগে আমরা আলোচনা করব২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে রেশন সামগ্রীর তালিকা (কোন ক্যাটাগরির কার্ডে কত পরিমান খাদ্য সামগ্রী) ফ্রি রেশন চার্ট এবং নতুন ডিজিটাল রেশন কার্ডের আপডেট নিয়ে।
কার্ড অনুযায়ী রেশনের বরাদ্দ (জানুয়ারি ২০২৬)
২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের নতুন খাদ্য বরাদ্দ অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গ সরকার সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখে পুষ্টিগুণ এবং পরিমাণে কিছু বিশেষ পরিবর্তন এনেছে।
![]() |
| পশ্চিমবঙ্গের নতুন রেশন তালিকা-২০২৬ বরাদ্দের পরিমাণ West Bengal New Ration List 2026 |
পশ্চিমবঙ্গ সরকার সাধারণ মানুষের কথা মাথায় রেখে রেশনে বরাদ্দ খাদ্যসামগ্রীর পরিমাণের পরিবর্তন করেছে। বর্তমানে পাঁচটি ক্যাটাগরির কার্ডে রেশন ভোক্তারা রেশন সামগ্রী পেয়ে থাকে।
এই কার্ডগুলি হলো: AAY (অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনা) রেশন কার্ড, PHH (অগ্রাধিকার প্রাপ্ত) রেশন কার্ড, SPHH (বিশেষ অগ্রাধিকার প্রাপ্ত) রেশন কার্ড, RKSY–1 (রাজ্য খাদ্য সুরক্ষা যোজনা) রেশন কার্ড, RKSY–2 (রাজ্য খাদ্য সুরক্ষা যোজনা) রেশন কার্ড। নতুন বছরের (২০২৬) জানুয়ারি মাস থেকে এই নিয়ম চালু হয়েছে।
নিচে প্রতিটি কার্ডের ক্যাটাগরি অনুযায়ী বিস্তারিত তথ্য আলোচনা করা হলো:
১. AAY (অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনা) কার্ড:
(Antyodaya Anna Yojana) Card
সমাজের সবচেয়ে দরিদ্র (Poorest of the poor) পরিবারের মূলত ভূমিহীন কৃষক, প্রান্তিক ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী, বিধবা বা বার্ধক্যজনিত কারণে কর্মক্ষমতাহীন ব্যক্তি এবং যাদের আয়ের কোনো সুনির্দিষ্ট উৎস নেই, তাদের এই ক্যাটাগরিতে রাখা হয়।
এই কার্ডে পরিবার পিছু সবচেয়ে বেশি পরিমাণে খাদ্যশস্য দেওয়া হয়। দারিদ্র্য বিমোচন ও অপুষ্টি দূর করতে এটি সরকারের সবচেয়ে বড় সামাজিক সুরক্ষা কবচ।
এটি মূলত রাজ্যের সবচেয়ে দরিদ্র এবং অনগ্রসর পরিবারের জন্য বরাদ্দ।
- চাল: এই কার্ডে আগে পরিবার পিছু ২১ কেজি চাল দেওয়া হতো। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের নতুন রেশনতালিকা ২০২৬ অনুযায়ী পরিবার পিছু ১৫ কেজি চাল দেওয়া হবে।
- আটা/গম: এই কার্ডে পরিবার পিছু ১৩.৩ কেজি ফোর্টিফাইড আটা অথবা ১৪ কেজি গম/আটা দেওয়া হতো কিন্তু বর্তমানে ১৯ কেজি গম/আটা দেওয়া হবে।
২. PHH (অগ্রাধিকার প্রাপ্ত) কার্ড:
(Priority Household) Card
এটি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত পরিবারগুলোর জন্য। যাদের বার্ষিক আয় তুলনামূলক কম এবং গ্রামে বা শহরে যারা দারিদ্র সীমার নীচে (BPL) বসবাস করেন, তারা এই ক্যাটাগরির কার্ডের অন্তভুক্ত।
এই কার্ডের মাধ্যমে সরকার নিশ্চিত করে যে প্রতিটি নিম্নবিত্ত পরিবারের সদস্য যেন মাসিক ন্যূনতম খাদ্যশস্য পায়।
এই কার্ডে বরাদ্দ নির্ধারিত হয় পরিবারের সদস্য সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে।
- চাল: এই কার্ডে আগে চালের পরিমান ছিল প্রতি সদস্য পিছু (জনপ্রতি) ৩ কেজি। কিন্তু, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের নতুন রেশন তালিকা২০২৬ অনুযায়ী মাথাপিছু ২ কেজি চাল বরাদ্দ করা হয়েছে।
- আটা/গম: আগে এই কার্ডে মাথাপিছু ২ কেজি গম / আটা দেওয়া হত। এখন মাথাপিছু ৩ কেজি গম / আটা দেওয়া হত।
উদাহরণ: যদি আপনার পরিবারে ৫ জন সদস্য থাকে, তবে মোট ১০ কেজি চাল এবং ১৪.২৫ (১৫ কেজি) আটা পাবেন।
৩. SPHH (বিশেষ অগ্রাধিকার প্রাপ্ত) কার্ড:
(Special Priority Household) Card
এটি বিশেষ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত পরিবারগুলোর জন্য। PHH এবং SPHH-এর মধ্যে অর্থনৈতিকভাবে খুব বেশি পার্থক্য নেই। তবে বিশেষ কিছু মানদণ্ড (যেমন পরিবারের সদস্য সংখ্যা বা বিশেষ কোনো সামাজিক ক্যাটাগরি) অনুযায়ী সরকার কিছু পরিবারকে এই ক্যাটাগরির কার্ডের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।
PHH কার্ডের মতোই এটি খাদ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত হয়। এর গ্রাহকরাও কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের ভর্তুকিযুক্ত রেশন পান।
এই কার্ডের বরাদ্দের নিয়মগুলো প্রায় PHH কার্ডের মতোই, তবে এটি বিশেষ ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত।
- চাল: এই ক্যাটাগরির কার্ডে বরাদ্দ চালের পরিমান আগে ছিল মাথাপিছু ৩ কেজি। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের নতুন রেশন তালিকা২০২৬ অনুযায়ী মাথাপিছু ২ কেজি বরাদ্দ করা হয়েছে।
- আটা/গম: আগে গম / আটা দেওয়া হত মাথাপিছু ১ কেজি ৯০০ গ্রাম, এখন থেকে মাথাপিছু ২ কেজি ৮৫০ গ্রাম গম / আটা দেওয়া হবে।
এই কার্ডের মাধ্যমেও কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকারের সম্মিলিত খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পের সমস্ত সুবিধা পাওয়া যায়।
৪. RKSY-I (রাজ্য খাদ্য সুরক্ষা যোজনা-১) কার্ড:
(Rajya Khadya Suraksha Yojana-I) Card
এটি সম্পূর্ণভাবে রাজ্য সরকারের নিজস্ব প্রকল্প। যেসমস্ত পরিবার কেন্দ্রীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনের (NFSA) তালিকায় স্থান পায়নি, কিন্তু যাদের অর্থনৈতিক অবস্থা খুব একটা ভালো নয়, তাদের জন্য রাজ্য সরকার এই কার্ডটি চালু করেছে।
মূলত মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের বড় একটি অংশ এই কার্ড ব্যবহার করে। এর বড় সুবিধা হলো এতে জনপ্রতি ৫ কেজি করে চাল পাওয়া যায়, যা দৈনন্দিন খাদ্যের চাহিদা মেটাতে সাহায্য করে।
এটি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের নিজস্ব খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পের আওতাভুক্ত একটি জনপ্রিয় কার্ড।
- চাল: এই কার্ডের ভোক্তাদের প্রতি সদস্য পিছু ৫ কেজি চাল দেওয়া হত। বর্তমানেও এই কার্ডের ভোক্তাদের বরাদ্দ চালের পরিমাণ একই ৫কেজি (মাথাপিছু) রয়েছে।
- আটা/গম: এই কার্ডের ক্ষেত্রে সাধারণত আটার বরাদ্দ থাকে না, তবে চালের পরিমাণ অন্য সাধারণ কার্ডের চেয়ে বেশি দেওয়া হয়। এটি ২০২৬ সালেও সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চালু রাখা হয়েছে।
৫. RKSY-II (রাজ্য খাদ্য সুরক্ষা যোজনা-২) কার্ড:
(Rajya Khadya Suraksha Yojana-II) Card
এটিও রাজ্য সরকারের একটি প্রকল্প। এই কার্ডটি সেইসব নাগরিকদের জন্য যারা দারিদ্র্য সীমার উপরে (APL) বসবাস করেন কিন্তু, তবুও সরকারের থেকে সামান্য ভর্তুকিতে খাদ্যশস্য পাওয়ার অধিকারী।
এই কার্ডের গ্রাহকরা মূলত চাল এবং মাঝে মাঝে গম বা আটা পান। সাধারণত পরিচয়পত্র হিসেবে এবং সামান্য খাদ্য সহায়তার জন্য এই কার্ড ব্যবহৃত হয়।
যাঁরা অপেক্ষাকৃত সচ্ছল কিন্তু খাদ্য সুরক্ষার আওতায় আছেন, তাঁদের জন্য এই কার্ড।
- চাল: এই কার্ডের ভোক্তাদের প্রতি সদস্য পিছু ২ কেজি চাল দেওয়া হত। বর্তমানেও এই কার্ডের ভোক্তাদের বরাদ্দ চালের পরিমাণ একই ২ কেজি (মাথাপিছু) রয়েছে।
- আটা/গম: এই কার্ডে গম বা আটার বরাদ্দ থাকে না এবং বরাদ্দের পরিমাণও অন্যান্য কার্ডের তুলনায় কম।
রেশন ব্যাবস্থায় নতুন বছরের (২০২৬) কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম ও পরিবর্তন
২০২৬ সাল থেকে রেশন ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ করতে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে:
![]() |
| পশ্চিমবঙ্গের নতুন রেশন তালিকা-২০২৬ |
- ফোর্টিফাইড আটার গুরুত্ব: জানুয়ারি মাস থেকে প্রায় সমস্ত রেশন দোকানে খোলা গমের বদলে সিল-করা প্যাকেটে পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ (Fortified) আটা সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে আয়রন ও ভিটামিন বি-১২ থাকে।
- ই-রেশন সুবিধা: আপনার কাছে যদি ফিজিক্যাল কার্ড না থাকে, তবুও আপনি মোবাইল থেকে e-RC দেখিয়ে এই নির্দিষ্ট বরাদ্দের চাল-আটা সংগ্রহ করতে পারবেন।
- বায়োমেট্রিক অথেন্টিকেশন: কার্ডে আপনার নাম থাকলেও বরাদ্দের মাল সংগ্রহ করতে হলে অবশ্যই আধার লিঙ্কের মাধ্যমে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ভেরিফিকেশন করাতে হবে।
দ্রষ্টব্য: অনেক ক্ষেত্রে গমের পরিবর্তে সরকার থেকে সরাসরি প্যাকেটজাত 'ফোর্টিফাইড আটা' সরবরাহ করা হচ্ছে। আটার প্যাকেজিংয়ের জন্য সামান্য চার্জ দিতে হতে পারে।
কোনো অভিযোগ থাকলে কোথায় জানাবেন?
রেশন পেতে সমস্যা হলে বা ডিলার কম মাল দিলে আপনি সরাসরি সরকারের হেল্পলাইনে যোগাযোগ করতে পারেন:
টোল-ফ্রি নম্বর: 1800 345 5505 / 1967
অফিসিয়াল ওয়েবসাইট: Food & Supplies Department - Government of West Bengal
উপসংহার
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই ডিজিটাল রেশন ব্যবস্থার ফলে সাধারণ মানুষ এখন ঘরে বসেই তাদের প্রাপ্য সম্পর্কে জানতে পারছেন। জানুয়ারি ২০২৬-এর এইনতুন লিস্ট অনুযায়ী আপনার প্রাপ্য বুঝে নিন এবং কোনো সমস্যা হলে দ্রুত খাদ্য দপ্তরের সাথে যোগাযোগ করুন।
FAQ
আমি কীভাবে জানব আমার রেশন কার্ডটি বর্তমানে অ্যাক্টিভ (Active) আছে কি না?
আপনার কার্ডের স্ট্যাটাস জানতে পশ্চিমবঙ্গ খাদ্য দপ্তরের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (food.wb.gov.in) এ যান। সেখানে 'Verify Ration Card' অপশনে গিয়ে আপনার কার্ড নম্বর এবং ক্যাটাগরি দিলেই কার্ডটি 'Active' না কি 'Deactivated' তা দেখতে পাবেন।
রেশন কার্ডের ই-কেওয়াইসি (e-KYC) করা কি বাধ্যতামূলক?
হ্যাঁ, ২০২৬ সালের নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রতিটি কার্ডের সাথে আধার লিঙ্ক এবং ই-কেওয়াইসি করা বাধ্যতামূলক। ই-কেওয়াইসি না করা থাকলে আপনার ডিজিটাল রেশন কার্ডটি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং আপনি রেশন দোকান থেকে খাদ্যশস্য পাবেন না।
রেশন তালিকায় নাম না থাকলে বা কার্ড হারিয়ে গেলে কী করণীয়?
তালিকায় নাম না থাকলে আপনি অনলাইনে (Form 3) নতুন কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন। আর কার্ড হারিয়ে গেলে 'Duplicate Ration Card' (Form 9)-এর মাধ্যমে নতুন কার্ডের জন্য আবেদন করা যায়। এছাড়া নিকটস্থ 'বাংলা সহায়তা কেন্দ্র' (BSK) থেকেও এই সাহায্য পাওয়া সম্ভব।
'এক দেশ এক রেশন কার্ড'(ONORC) প্রকল্পের সুবিধা কী?
এই প্রকল্পের মাধ্যমে আপনি যদি পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হন এবং কর্মসূত্রে অন্য জেলায় বা অন্য রাজ্যে থাকেন, তবে আপনি আপনার আধার কার্ড এবং ডিজিটাল রেশন কার্ড ব্যবহার করে সেই এলাকার যেকোনো রেশন দোকান থেকেই আপনার প্রাপ্য খাদ্যশস্য সংগ্রহ করতে পারবেন।


.png)